মোবাইল ডেটা ব্যবহারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করলো বিটিআরসি

১৫ মার্চ, ২০২২ ১৪:১৯  
গত বছর ২২ আগস্ট গণশুনানিতে মোবাইল ডেটা নিয়ে দারুণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রাহকরা। এর পরের মাসেই নতুন প্যাকেজ নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এরপর সাড়ে ছয় মাসে ৯টি বৈঠকের মাধ্যমে অংশীজনদের অংশগ্রহণে গ্রাহকের জন্য পুরো ডাটা ব্যবহারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য তিন ধাপে সর্বোচ্চ ৯৫টি ডাটা প্যাকেজ দেয়ার সীমা বেঁধে দিয়েছে বিটিআরসি। এর কেনো ধাপেই ৫০টির বেশি প্যাকেজ থাকতে পারবে না। একইভাবে দুই প্যাকেজের মধ্যে ব্যবধান ১০০ এমবি ডাটা অথবা ১০ মিনিট টক টাইমের বেশি হতে পারবে না। পাশাপাশি সকল ডাটা প্যাকেজে ৩দিন, সাত দিন, ১৫দিন ও ৩০ দিন মোট ৪টা মেয়াদ থাকতে পারবে। রেগুলার প্যাকেজগুলোর মেয়াদ ন্যূনতম ১ মাস।  গ্রাহকের ব্যবহার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্যাকেজে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ভিন্ন মেয়াদের একই প্যাক ক্রয় করলেই ৩ দিন মেয়াদের অব্যবহৃত ডেটা পুরো ৩০ দিন ব্যবহার করতে পারবেন। শুধু তাই-ই নয় প্রতি মাসে অপারেটরদেরকে গ্রাহককে বাংলা খুদে বার্তায় কল ও ডাটা ব্যবহারের একটা উদ্বর্ত পত্র প্রত্যেক গ্রাহককেই সরবরাহ করতে হবে বাধ্যতামূলক ভাবে। মঙ্গলবার দুপুরে বিটিআরসি সম্মেলন কক্ষে তিন পর্বে মোবাইল ডাটার নতুন এই পদ্ধতি উপস্থাপন করেন বিটিআরসি মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ। প্রথম পর্বে নতুন প্যাকেজ নির্দেশিকা বাস্তবায়নের ওপর উপস্থাপনা এবং দ্বিতীয় পর্বে তুলে ধরা হয় নতুন ডাটা প্যাকেজ হয়। প্যাকেজ সংখ্যা, ডেটা ক্যারি ফরওয়ার্ড সহ প্রতি ধাপেই বেঁধে দেয়া প্যাাকেজে স্বচ্ছ্বতা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান নাসিম পারভেজ।
পুরো পরিবেশন উপোভোগ করে মোবাইল ডাটা সংক্রান্ত এই প্যাকেজের উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তবে এই প্যাকেজ পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি তাকে। অনুষ্ঠানের মাঝ পথেই তিনি গ্রাহকরা কেন মেয়াদের সীমায় বাঁধা থাকবেন সেই প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয় কোনো অপারেটর চাইলে গ্রাহককে ইচ্ছে মতো ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বাধীনতা দিয়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মতো  ডাটা নয়, ইন্টারনেট স্পিড ব্যবহারে গ্রাহকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারবেন।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মোঃ খলিলুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিটিআরসি ভাইস প্রেসিডেন্ট সুব্রত কুমার মৈত্র। অনুষ্ঠানে সকল অপারেটরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় আজ পর্যন্ত প্যাকেজ বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটক প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে নতুন প্যাকেজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে তারা। অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের হেড অব রেগুলেটরি সাদাত হোসেন বলেন, নতুন ডাটা প্যাকেজ একটি গ্রাহকবান্ধব নির্দেশিকা । দীর্ঘদিন ধরে বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটররা সমন্বয় করে এ খাতে উদ্ভূত সমস্যা সমাধান করার পাশাপাশি প্রতিনিয়িত গ্রাহকবান্ধব নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ১৭ মার্চ টেলিটক একটি আনলিমিটেড ডাটা প্যাকেজ চালু করবে জানিয়ে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ সাহাব উদ্দিন বলেন, নতুন প্যাকেজ নীতিমালা একটি মাইলফলক। এর মাধ্যমে গ্রাহক রিচার্জ এমাউন্ট ও ডাটার ব্যবহারের চিত্র পেয়ে যাবে। অপারেটরদের জন্য একটি বাড়তি চাপ  হলেও নতুন নির্দেশিকা হবে গ্রাহকবান্ধব। রবির চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার শাহেদ আলম বলেন,  টেলিকম খাতে শৃঙ্খলা আনয়নে অপারেটর ও বিটিআরসি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। টেলিকম খাতে প্রবৃদ্ধি আনতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে এ খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে।  প্রতিযোগিতামূলক টেলিকম খাতে বিদ্যমান যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে তার ওপর গুরুত্ব প্রদানে বিটিআরসির প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রশীদ বলেন, আমাদের এখন প্রতিযোগিতামুলক বাজারে টিকে থাকতে হচ্ছে, তারপরেও গ্রাহকদের স্বার্থে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশিকার ফলে গ্রাহক অভিযোগ কমে আসবে বলেও জানান তিনি। অ্যামটবের মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ (অব:) বলেন, বর্তমানে টেলিকম খাত গ্রাহককে ভালোভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন নির্দেশিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের গড়ার ক্ষেত্রে স্মার্টফৈানের ব্যবহার বাড়াতে মোবাইলের মূল্য আরো কমিয়ে আনতে হবে বলে মনে করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সমাজে ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।  নতুন নির্দেশিকার ফলে টেলিকম খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তবে শিক্ষিত মানুষের পাশাপাশি যাতে সাধারণ মানুষ প্যাকেজ সর্ম্পকে অবহিত হতে পারে সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া, কলড্রপ ও কোয়ালিটি অব সার্ভিস নিশ্চিত করতে অপারেটরদের প্রতি আহবান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার জানান, বিটিআরসি সবসময় গ্রাহক স্বার্থ এবং গ্রাহক আত্মতুষ্টির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামীতে ভয়েস কলের চেয়ে ডাটা ওপর নির্ভরতা বেশি হবে বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, অপারেটরদেরকে এখন থেকে ডাটার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিটিআরসি ডাটার ফ্লোর প্রাইস র্নিধারণ করতে উদ্যোগ নিবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, কলড্রপ নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তুষ্টি আছে, তাই অপারেটরদেরকে ফাইবার অপটিক ও তরঙ্গে ব্যবহার বাড়াতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যেদের মধ্যে কমিশনার (ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেশনস) প্রকৈাশলী মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ, কমিশনার (লিগ্যাল এন্ড লাইসেন্সিং) আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন, মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো: দেলোয়ার হোসেন, মহাপরিচালক (স্পেকক্ট্রাম) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জুয়েল, মহাপরিচালক (লিগ্যাল এন্ড লাইসেন্সিং) আশীষ কুমার কুন্ডু, মহাপরিচালক (অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব) প্রকৌশলী মোঃ মেসবাহুজ্জামানসহ বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটরদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।